জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, এ মামলায় ষষ্ঠ দিনের মতো বুধবার সমাপনী বক্তব্য তুলে ধরবেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য শেষ হলে পলাতক আসামিদের পক্ষে নিয়োজিত স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

এদিকে মামলায় নতুন করে কয়েকটি কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এসব রেকর্ডের মধ্যে তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুনুর রশিদের সঙ্গে হওয়া একটি ফোনালাপও রয়েছে। ওই কথোপকথনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে খাবার খাওয়ানোর ছবি প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
এর আগে গত ৪ আগস্ট মামলাটিতে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য, নথি ও যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলন প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা এবং কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগের পক্ষে একাধিক ফোনালাপসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কয়েকজন আসামির ভূমিকার বিষয়টি যুক্তিতর্কে তুলে ধরা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

