রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজ দেশের নাগরিকদের উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকার।
সম্প্রতি কানাডা সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভ্রমণ সতর্কবার্তায় বাংলাদেশ সফর নিয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
কানাডার ভ্রমণ পরামর্শে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি আগের তুলনায় শান্ত থাকলেও যেকোনো সময় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ কিংবা সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত কানাডীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার কয়েকটি এলাকাতেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানিয়েছে কানাডা সরকার। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মতিঝিল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা ও কারওয়ান বাজার।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ পুরোপুরি পরিহারের পরামর্শ দিয়ে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, জাতিগত সংঘাত, অপহরণ এবং মাদক ও অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি রয়েছে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কেউ ওই অঞ্চলে ভ্রমণ করতে চাইলে অন্তত ১০ দিন আগে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নারী ভ্রমণকারীদের একা বাংলাদেশ ভ্রমণ না করার জন্যও নিরুৎসাহিত করেছে কানাডা সরকার। পাশাপাশি রাতে গণপরিবহন ব্যবহার না করা এবং ঢাকা শহরের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণ নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্মীয় উৎসব, বড় ধরনের জনসমাগম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা এখনো রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ ধর্মঘট ও অবরোধের সময় বাংলাদেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শও দিয়েছে কানাডা সরকার।

