বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ভারত দ্রুত করবে বলে প্রত্যাশা জানিয়েছে ঢাকা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দফতরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এটি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকের শুরুতে ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকায় দায়িত্ব পালনের গত দুই মাসের অভিজ্ঞতাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা জানানো হয়।
একই সঙ্গে ২০২৫ সালে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ভারতে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার অনুরোধও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ক আরও কার্যকর ও সহযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘আলোচনা খুবই ইতিবাচক হয়েছে’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকের আলোচনা অত্যন্ত ভালো ও ইতিবাচক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক বলে জানান তিনি।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে অনেক জটিল বিষয় সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু থাকলেও উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা মূলত সুসম্পর্ক। বাংলাদেশ ও ভারতের ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ শুধু সীমান্ত নয়, নিজেদের স্বপ্নও ভাগ করে নেয়।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য আগামী দিনগুলো ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী। দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলেও তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়েও আলোচনা
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি বৈঠকে আলোচিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, এটি দুঃখ প্রকাশের বিষয় নয়। বাংলাদেশের আদালতে শেখ হাসিনার বিচার ও দণ্ডের পর তাঁর নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি সক্ষম আদালত শেখ হাসিনার বিচার করে তাঁকে দণ্ড দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকলে তা দেশের আদালতেই উপস্থাপন করার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনো স্তম্ভকে যেন কোনো দেশ ছোট করে না দেখে, সেটিই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে তিনি আশাবাদী।
ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়গুলো সংক্ষেপে আলোচনায় এসেছে। তবে এগুলো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

