এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রশিবির নেতা এস এম ফরহাদ। এ সময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মিষ্টিমুখও করানো হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে মিষ্টি নিয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান এস এম ফরহাদ। এ সময় ছাত্রশিবিরের অন্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এস এম ফরহাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা, শহর ও মহানগরে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে, সেগুলো মোকাবিলায় তাদের উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে বড় ভাই ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের অনুপ্রেরণা দেওয়া দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডাকসুর জিএস বলেন, পরীক্ষার ফল জীবনের শেষ কথা নয়। অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল না পেয়েও পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রম করে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আবার শুধু জিপিএ-৫ অর্জন করলেই যে ভবিষ্যতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নিশ্চিত হবে, এমনটিও নয়।

তিনি বলেন, যারা ভালো ফল করেছে, তাদের সাফল্যে অহংকার না করে বিনয়ীভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর যাদের ফল প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে, তাদের হতাশ না হয়ে ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ স্পষ্ট করেন, এ কর্মসূচি ডাকসুর পক্ষ থেকে নয়; এটি ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। তার ভাষ্য, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং বড় ভাই হিসেবে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেওয়া, শুভেচ্ছা জানানো এবং তাদের পাশে থাকার একটি প্রচেষ্টা।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
ফুল ও মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা পেয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করেন। আরিয়ান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে এভাবে শুভেচ্ছা পেয়ে তার ভালো লেগেছে। সামনে কলেজজীবন শুরু হবে, আর বড় ভাইদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেও জানান তিনি।
জুবায়ের নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ফলাফল নিয়ে আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও কিছুটা চিন্তা ছিল। শুভেচ্ছা ও পরামর্শ পাওয়ায় ভালো লেগেছে এবং সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
অভিভাবকদের মতামত
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপস্থিত অভিভাবকরাও উদ্যোগটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। শাহেলা নামের এক অভিভাবক বলেন, ফল প্রকাশের দিনে সন্তানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো ও মিষ্টিমুখ করানো আনন্দের বিষয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আরও উৎসাহিত করবে।
সাব্বির আহমেদ নামের আরেক অভিভাবক বলেন, এসএসসির পর শিক্ষার্থীদের সামনে জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়। এ সময়ে শুধু ফলাফল নয়, ভবিষ্যতে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে সে বিষয়েও তাদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। এ ধরনের শুভেচ্ছা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
অভিভাবক সুলতান আহমেদ বলেন, ফলাফল ভালো হোক বা খারাপ—উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা জরুরি। হতাশ না করে তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহ দেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

