বিশেষভাবে তৈরি করা জ্যাকেটের গোপন চেম্বারে ফেনসিডিল বহন করে রাজধানীতে পাচারের অভিযোগে চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৩০৯ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. নাসিরুল ইসলাম (৪৮), মো. ফাহিম আজাদ (২৭), মোছা. জুলেখা খাতুন (৩২) এবং মোছা. শারমিন খাতুন (৩২)।

ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ন্যাশনাল ট্রাভেলস ও দেশ ট্রাভেলসের যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল ঢাকায় আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকার কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান নেয় গোয়েন্দা দলের সদস্যরা।
অভিযানের সময় প্রথমে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের একটি বাস থামিয়ে তিন যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে তাদের বহন করা ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর দেশ ট্রাভেলসের আরেকটি বাসে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয়। তার শরীরে থাকা বিশেষভাবে তৈরি একটি জ্যাকেটের ভেতরের গোপন চেম্বার থেকে এসকাফ ও ফেয়ারডাইল সিরাপ ব্র্যান্ডের কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসির দাবি, গ্রেপ্তার চক্রটি দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিয়মিত ঢাকায় ফেনসিডিল সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা মাদক পরিবহনের সময় মোবাইল ফোন বন্ধ রাখত, একাধিক রুট ও বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করত এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনে এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করত।
তদন্তে আরও জানা যায়, বিশেষভাবে তৈরি জ্যাকেটগুলোর ভেতরে একাধিক গোপন চেম্বার ছিল, যেখানে একসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ বোতল পর্যন্ত ফেনসিডিল বহন করা সম্ভব হতো। বাইরে থেকে জ্যাকেটগুলো সাধারণ পোশাকের মতো দেখাত, ফলে সহজেই নজর এড়িয়ে মাদক পরিবহন করা যেত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে কোডিন ফসফেটযুক্ত এসকাফ ও ফেয়ারডাইল সিরাপের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
সংস্থাটি আরও জানায়, চক্রটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মাদক সংগ্রহ করে যাত্রীবাহী বাসে ঢাকায় এনে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করত। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
