২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি জানান, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই সরকারের অধীনেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
সেদিন বিকেল ৪টার দিকে সেনাসদরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সেনাপ্রধান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পরবর্তী ধাপে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

চলমান সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সেনাপ্রধান বলেন, এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, সংঘাত, ভাঙচুর ও অরাজকতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবাইকে ধৈর্য ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সেনাপ্রধান জানান, সংবাদ ব্রিফিংয়ের আগে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধি ওই বৈঠকে অংশ নেননি।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, জনজীবন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সহিংসতা বন্ধ করা জরুরি। এজন্য সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিষয়টি তখনও প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ড. আসিফ নজরুলের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল, যাতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
বক্তব্যের শেষদিকে সেনাপ্রধান পুনরায় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংকট উত্তরণে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করে যাবে। তিনি সবাইকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
