জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, শূন্য থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর গড়ে তোলার কাজ ছিল আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধের মতো কঠিন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে জাদুঘর নির্মাণের নানা চ্যালেঞ্জ, পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ফারুকী জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত নানা দায়িত্বের পাশাপাশি মাত্র এক বছরের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর নির্মাণ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যক্তিগতভাবে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হলেও শত শত শহীদের আত্মত্যাগের তুলনায় তা খুবই সামান্য।

জাদুঘর নির্মাণে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় এলেও তাতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয়ের সম্ভাবনা থাকায় নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতার ওপর ভরসা করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত জাদুঘরটি পরিদর্শনকারী অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও জাদুঘরটি নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

টিম লিডার ও আর্টিস্টিক ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার সময় কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সংশ্লিষ্ট সহকর্মীদের কাছে ক্ষমাও চান ফারুকী। তিনি বলেন, কাজের স্বার্থেই অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর একটি চলমান প্রকল্প হিসেবে বিকশিত হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৬ বছরের নানা ঘটনার সব তথ্য একসঙ্গে তুলে ধরা সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য, দলিল, গবেষণা এবং ঐতিহাসিক উপাদান এতে যুক্ত হবে।
ফারুকীর ভাষ্য, গেজেটভুক্ত ৮৩৫ জন শহীদের প্রত্যেককে নিয়ে পৃথক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করতেই কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এছাড়া জাদুঘরটি শুধু জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও এটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
