গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার বিভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে নতুন কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এসব তথ্যে তার দেশত্যাগের সময়কার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যবহৃত উড়োজাহন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং পুরো রেসকিউ মিশনের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি এবং তথ্যগুলোর স্বতন্ত্র যাচাইও সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ৫ আগস্ট রাজধানীতে গণ-অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে শেখ হাসিনাকে গণভবন ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে তাকে এবং তার বোন শেখ রেহানাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কুর্মিটোলা এয়ার বেইজ থেকে একটি সামরিক পরিবহন বিমানে তারা ভারতের উদ্দেশে রওনা হন।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা। কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা একটি সামরিক পরিবহন বিমানে শেখ হাসিনাকে ওঠানো হয়। ওই বিমানে তার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিও অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পুরো অভিযানটি সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং সীমিতসংখ্যক সামরিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়নের সময় বিমানটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে বিমানটি ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে এবং সেখানে ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে গ্রহণ করেন বলে সূত্রগুলোর বক্তব্য।
প্রকাশিত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার পরবর্তী দায়িত্ব ও পদায়নের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে মতামত দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী পদত্যাগের পরও একজন সাবেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসএসএফের নিরাপত্তা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই তিনি মনে করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সে সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে আইনগত ব্যাখ্যা ও সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার দেশত্যাগকে ঘিরে প্রকাশিত এসব তথ্য বিভিন্ন সূত্রের দাবি ও বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সামনে এসেছে। সরকার, সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
