ঢাকাSaturday , 14 March 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিয়োগ, পরীক্ষা, টেন্ডার—সবখানে সিন্ডিকেটের ছায়া, টালমাটাল ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

দেশ সময়
March 14, 2026 9:40 pm
Link Copied!

দেশের দেড় হাজারেরও অধিক উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের আলিয়া মাদরাসা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত রাজনৈতিক সমর্থিত একটি সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায়।

Advertisement

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতের আমীর হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ড. শামছুল আলম উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে এবং ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো জামায়াত-সমর্থিত ব্যক্তিদের দখলে চলে যায়।

ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই নিজ ঘনিষ্ঠ ও দলীয় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. অলী উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শাজাতউল্লাহকে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement

এছাড়া জামায়াত-সমর্থিত হিসেবে পরিচিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ রেজিস্ট্রার মো. আউয়ুব হোসেনকে রেজিস্ট্রার পদে, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ আলীকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গিয়াস উদ্দিনকে মাদ্রাসা পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও লিয়েন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়, যা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

Advertisement

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিনা অপরাধে ও ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড. আবু হানিফা এবং মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে কার্যত সরিয়ে রাখা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ‘ইনসাফের নামে বৈষম্য’ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঐ রাজনৈতিক দলের সমর্থিত কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক বলয় তৈরি করা হয়। পাশাপাশি জামায়াত-সমর্থিত রাজনীতিক ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির সভাপতি এবং ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত-সমর্থিত এমপি প্রার্থী আবদুল মান্নানের পরামর্শে ভিসি ও ট্রেজারারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুইজন প্রো-ভিসিকে কার্যত পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালনা করা হয়েছে।
আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে “ইনসাফের নামে বেইনসাফি” করে প্রশাসন পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।

সূত্রের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভেতরে দুটি শক্তিশালী গ্রুপ গড়ে ওঠে। একটি গ্রুপ ডিন ড. অলী উল্লাহ ও রেজিস্ট্রারের নেতৃত্বে এবং অন্যটি বেরোবি থেকে আগত বিতর্কিত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এই দুই গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান, নবায়ন, তদন্ত, পরীক্ষা পরিদর্শন, গভর্নিং বডি গঠন, নিয়োগ, ক্রয়-বিক্রয়, কাগজ টেন্ডারসহ প্রায় সব প্রশাসনিক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অভিযোগ রয়েছে, গত দেড় বছরে সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল থেকে শুরু করে ছোট ছোট ক্রয় কমিটি পর্যন্ত প্রায় সব কমিটিতেই জামায়াত বা শিবির-সমর্থিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কমিটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ই ছিল প্রধান যোগ্যতা যার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে প্রশাসনিক কাগজপত্রে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াত-সমর্থিত ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং মাদ্রাসা পরিদর্শক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এখনও কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।

তাদের মধ্যে উপাচার্যের পিএস ও সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আরিফ অন্যতম। সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম ও মাদরাসা সংগঠন জমিয়তুল মোদার্সেইনের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে যোগ দিলেও পরবর্তীতে জানা যায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হল শিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। ভিসি শামছুল আলমের ঘনিষ্ঠ জামায়াত নেতা প্রফেসর মান্নানের সুপারিশে তিনি ভিসির পিএস হিসেবে দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার রুহুল উল্লাহকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার বাবা মাওলানা রাজ্জাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য থাকাকালীন সময়েই প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পান এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার বোন জামাতা ও জামাতের নেতা সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলামের প্রভাব খাটিয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রভাবশালী সমন্বয়ক হিসেবে পুরো দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল হান্নান সাব্বিরের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কার্যক্রম নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে অবৈধভাবে সনদ প্রদান, নিয়মবহির্ভূত পরীক্ষা পরিদর্শন এবং খাতার টেন্ডারসহ বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

পার্সেস শাখার কর্মকর্তা দিদার উল্লাহর বিরুদ্ধেও ভুয়া ক্রয়ের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে সহকারী রেজিস্ট্রার ইকবাল ও বাজেট শাখার সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিজেদের পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দিতে না পারলে একাধিকবার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, মশিউর রহমান, তোফায়েল আহমেদ (রোকন) সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের চাচাতো ভাই আরিফ আহমদ (রোকন) এবং সায়েদ আহমদ মজুমদার (রোকন) নামের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
design and development by: Kishor Kumar