পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মঠবাড়িয়া-মিরুখালী ইউনিয়নের এলজিইডি সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ কয়েক বছর ধরে থমকে আছে। সড়কের দুই পাশের গাছ সময়মতো অপসারণ করতে না পারায় উন্নয়নকাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট সাব-ঠিকাদাররাও আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সড়কটির প্রস্থ ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজ শুরুর পরই সড়কের দুই পাশের গাছ অপসারণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
নিয়ম অনুযায়ী, সড়ক বা এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে গাছগুলোর মূল্যায়ন, নিলামসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। তবে সে সময় গাছ অপসারণের প্রক্রিয়া যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় সড়কের কাজও বাধাগ্রস্ত হয়।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মূল ঠিকাদার মিরাজুল ইসলামের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হলে সাব-ঠিকাদাররা আর বিল উত্তোলন করতে পারেননি। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে হারজি বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়।
পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও সাবেক মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী জিয়ারুল ইসলাম জানান, মঠবাড়িয়া-মিরুখালী ইউনিয়নের সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ প্রশস্ত করতে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় মেকাডমসহ পৌরসভা অংশে প্রায় ২০০ মিটার সড়ক আরসিসি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশ ভেঙে যাওয়ায় গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। সাব-ঠিকাদাররা এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করতে পেরেছেন। তবে মূল ঠিকাদারের ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়ার পর থেকে আর কোনো বিল উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
জিয়ারুল ইসলাম বলেন, মূলত সড়কের দুই পাশের গাছ অপসারণে বিলম্বের কারণেই প্রকল্পের কাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবগত হয়ে অসম্পন্ন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।


