শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দেশব্যাপী নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র বা কার্যক্রম থেকে বিধিমালায় নির্ধারিত শব্দমাত্রার বেশি শব্দ সৃষ্টি করা যাবে না।

বিধিমালার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো হলো—
- কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি থাকলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং ব্যবহারের সময় পাঁচ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
- নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্ন উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ, বাজারজাত, পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- নীরব (সাইলেন্ট) এলাকায় হর্ন বাজানো যাবে না। এছাড়া পটকা, আতশবাজি বা শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন অন্য যেকোনো কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।
- আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না।
- প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বেলুন ফোটানো এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।
- আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা যাবে না।
- কোনো ট্রাফিক সার্জেন্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তারা ঘটনাস্থলেই আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নতুন বিধিমালার নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে শব্দদূষণ কমাতে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

