চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে না আসায় তার অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সরকার পতনের পর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ তার ছোট ছেলে সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে বসবাসরত তার মেয়ে আঞ্জুমানারা কান্তা আব্দুল্লাহর বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। কান্তা একজন ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, আঞ্জুমানারা কান্তা অতীতে তার বাবার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে সুপারিশ ও সমন্বয়ের কাজেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ আগে থেকেই ভারতে বিকল্প অবস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ভারতে অর্থ পাচার ও সম্পদ গড়ার অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসানাত আব্দুল্লাহর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা খায়রুল বাশার গত ২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুম্বাই যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই সময়ই হাসানাত আব্দুল্লাহও ভারত যান।

অন্যদিকে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং তার ছোট ভাই সেরনিয়াবাত আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ দেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ এবং কর্মসংস্থান প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ৫ আগস্ট বিকেলে বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি সড়কে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেখান থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সাদিক আব্দুল্লাহকে ভবনের ছাদে দেখা গিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশ হয়নি।
এ ঘটনার কয়েক দিন পর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর মেজ ছেলে মঈন আব্দুল্লাহ বরিশালে এসে পারিবারিক বাড়ি পরিদর্শন এবং মায়ের কবর জিয়ারত করেন। তার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফও ছিলেন। এ সফর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সফর প্রসঙ্গে মঈন আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং বরিশাল তার জন্মস্থান হওয়ায় সেখানে যাওয়া স্বাভাবিক। উপদেষ্টার ছেলের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মুয়াজ আরিফ তার শৈশবের বন্ধু এবং এই সফরের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।
