মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার রিধিকা রিধির মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে রিধির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন তার মা মনি বেগম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলাটি করেন।
মামলার পর হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, রিধির মা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেছেন। এতে রিধির প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন রিধির বাসায় যাওয়ার পর সেখান থেকেই হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলার এজাহারে রিধির মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ে লিনা আক্তারের সঙ্গে হাসিবুরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের কারণে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিরোধ ও ঝগড়া হতো। তার অভিযোগ, হাসিবুর তার মেয়েকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এতে রিধি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট রিধি কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাতে খাবারের পর তারা গল্প করছিলেন। এ সময় হাসিবুরের সঙ্গে ফোনে রিধির কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি বান্ধবীদের ড্রইংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন। এরপর হাসিবুরের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন রিধি।
রিধির মায়ের অভিযোগ, পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর বাসায় এসে দরজায় ডাকাডাকি করেন। বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে তিনি জানান, তার সঙ্গে রাগারাগির পর রিধি আত্মহত্যা করেছেন। পরে রুমে গিয়ে রিধিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান তারা।
এরপর হাসিবুর ও রিধির বান্ধবীরা তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে রিধির মা আরও দাবি করেন, তার মেয়ের আত্মহত্যা করার মতো কোনো মানসিক দুর্বলতা ছিল না। তার অভিযোগ, হাসিবুর দীর্ঘদিন ধরে রিধিকে মানসিকভাবে নির্যাতন এবং বিভিন্ন সময়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিনও মানসিক চাপের কারণে রিধি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে গত রোববার (১৬ আগস্ট) হাসিবুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তে বাদীর অভিযোগের পক্ষে কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে জামিনে মুক্তি পেলে তিনি আত্মগোপন বা পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত হাসিবুরকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
