মেধাবীদের স্বীকৃতি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন দৃষ্টান্ত
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের পারুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও পারুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার কৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এক ব্যতিক্রমী সম্মাননা ও আর্থিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উজ্জীবিত পারুলিয়া ও রাবেয়া মোদাস্সের ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ প্লাসপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিশেষ সম্মাননা, পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। প্রত্যেক এ প্লাসপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানটি উজ্জীবিত পারুলিয়ার সভাপতি মাহাতাব হোসেনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে পারুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, পারুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ শিক্ষক, জাতীয় শিল্প কলা একাডেমি থেকে বারবার পুরস্কৃত শিল্পী সুরাইয়া পারভীন লিরা, বিশিষ্ট অবৃতিকার আনোয়ার হোসেন মিয়া (চন্দন), সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন রাবেয়া মোদাস্সের ফাউন্ডেশনের মাননীয় চেয়ারম্যান এবং পারুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান। তিনি অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও বার্তাবাহকের মাধ্যমে তাঁর শুভেচ্ছা ও বক্তব্য পৌঁছে দেন এবং আয়োজনটির জন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু বর্তমান কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা নয়; বরং আগামী দিনে যারা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে, তাদের প্রত্যেকের মধ্যে ভালো ফলাফল করার স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করা।

একজন শিক্ষার্থী যখন দেখবে তার এলাকার একজন সহপাঠী ভালো ফলাফলের জন্য সম্মানিত হচ্ছে এবং তার পড়াশোনার ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছে, তখন সেটি তার মধ্যেও ভালো করার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করবে। একই সঙ্গে আর্থিক সহযোগিতার এই উদ্যোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথে একটি নিরাপদ আর্থিক ভিত্তি ও মানসিক স্বস্তি তৈরি করতে সহায়তা করবে।
ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্যও আরও মনোযোগী হবে। এভাবে ধীরে ধীরে পারুলিয়ার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা, মেধার চর্চা, ভালো ফলাফল অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় তৈরি হবে—যার সুফল পাবে পুরো সমাজ।
রাবেয়া মোদাস্সের ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পারুলিয়া এলাকার যেসব শিক্ষার্থী এ প্লাস অর্জন করবে, তাদের জন্য প্রয়োজনে ফুল-ফ্রি স্কলারশিপের মাধ্যমে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেন্দ্রিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকার জনগণ উজ্জীবিত পারুলিয়া ও রাবেয়া মোদাস্সের ফাউন্ডেশন-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আজকের একটি সম্মাননা—আগামী দিনের শত শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণা।
একজনের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া মানেই আরও অনেককে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখানো।
