সমাজ বিনির্মাণে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর নিলেও সমাজ গঠনে তাদের মেধা, মননশীলতা ও অভিজ্ঞতা থেকে অবসর নেননি। এখনো তারা সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, দুর্গাপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৫ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে দেওয়া বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রাখার জন্য আমি আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, একজন সফল মানুষের পেছনে একজন শিক্ষকের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষাদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীকে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সঠিক পরামর্শ দেন, ব্যর্থতার সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেন এবং সাফল্যের সময় নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পথ দেখান।
কায়সার কামাল বলেন, একজন শিক্ষক একটি প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও অভিজ্ঞতা সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান আনসারী।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মোজাম্মেল হক ও আশরাফুল উলুম।
এ ছাড়া দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন মাস্টার, উপজেলা বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান, দুর্গাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেছ গণিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
