শিক্ষা খাতে এবার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে কাজ করছে।
শনিবার সকালে সাভারের বিরুলিয়ায় ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত উপাচার্যদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে, সেখান থেকে আরও উন্নত ও বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, বাস্তব জীবনে কাজে লাগে এমন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। পড়াশোনা শেষে যাতে তারা ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ পায় এবং দেশ-বিদেশের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, একটি মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউজিসির বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন উপাচার্য ছাড়াও নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংলাপে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ, শ্রমবাজারের পরিবর্তন, শিক্ষার গুণগত মান, জবাবদিহি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
