রাঙামাটির মানিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি পিকআপ উল্টে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—মেঘরানী চাকমা, শান্তনা চাকমা, শান্তি রঞ্জন চাকমা ও শোভা চাকমা। আহত দুজন হলেন পিকআপচালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও যাত্রী সুমন চাকমা। তারা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহর থেকে যাত্রী নিয়ে পিকআপটি কুতুকছড়ি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে পিকআপটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শোভা চাকমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতদের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
নিহত মেঘরানী চাকমা ও শোভা চাকমার বাড়ি নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায়। শান্তনা চাকমা রাঙামাটি শহরের আমানতবাগ এবং শান্তি রঞ্জন চাকমা বিজয়নগর এলাকার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রোববার সকাল ৯টার দিকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে যান রাঙামাটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাঙামাটির দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক সংস্কার ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের আরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
