নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের (এনজেডটিই) সঙ্গে বৈঠকে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে এনজেডটিইর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মার্কেট ম্যানেজার র্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে এনজেডটিইর সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনসহ তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড থেকে প্রধানত দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্য আমদানি করে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে।

দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করতে বাংলাদেশ থেকে অপ্রচলিত ও অ-পোশাক পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে এনজেডটিইর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সক্ষমতাও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের সনদ ও আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থার আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষতার বিষয়টি তুলে ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, পুষ্টিসমৃদ্ধ বিশেষায়িত পণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, আধুনিক উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ বাজারেও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবে।
সহযোগিতাকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বৈঠকে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এগুলো হলো—এনজেডটিইর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বিডার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও কার্যকর করা।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক পরিষদ গঠন এবং বাণিজ্য মেলার আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মতি প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে দুই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের বড় বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা যুক্ত হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।

