২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে কোনো বিপ্লব ঘটেনি, বরং ওই দিন একটি ‘মহাগণঅভ্যুত্থান’ সংঘটিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে যুগান্তর কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পত্রিকাটির বিশেষ প্রতিবেদক কাজী জেবেল।
ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, কোনো ঘটনাকে বিপ্লব বলতে হলে একটি সমাজের সামগ্রিক কাঠামোর বড় ধরনের পরিবর্তন এবং নতুন সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠার বিষয় থাকতে হয়। তার মতে, চীন, রাশিয়া ও কিউবার মতো দেশে বিপ্লবের উদাহরণ রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনাগুলো মূলত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭৫, ১৯৯০, ১৯৯১ ও ২০২৪ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণআন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ১৮৫৭ সালের ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘটনাটিও স্মরণ করেন এই শিক্ষাবিদ।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, চীনকে মোকাবিলা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এমন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সড়ক যোগাযোগ, মোংলা বন্দর এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় একসময় ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও বর্তমানে সেগুলো নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের এসব উদ্যোগে আগ্রহের ঘাটতি থাকতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা—এমন মন্তব্য করে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘২৪-এর চেতনা’ও মূলত জাতীয় ঐক্যের কথা বলে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সমাজে বিভাজন দেখা দিয়েছে। এই বিভক্তি দূর করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, অর্থনীতিবিদ ও আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ এবং সাংবাদিক ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আবু রুশদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, বার্তা সম্পাদক জোহায়ের ইবনে কলিম, নগর সম্পাদক মিজান মালিকসহ পত্রিকাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া আলোচকেরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি এবং দেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

