প্রথমবারের মতো ভারতের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক ৪ দিনের যুদ্ধে ভারতের কিছু যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। সোমবার, ৩০ জুন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে জিও নিউজ।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারতের নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন শিব কুমার নিশ্চিত করেন, গত ৭ মে পাকিস্তান এয়ারফোর্সের (পিএএফ) সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আকাশযুদ্ধে ভারতীয় কিছু জেট ভূপাতিত হয়েছিল।

জাকার্তায় ভারতীয় দূতাবাস থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে কাজ করে, যা আমাদের প্রতিবেশী কিছু দেশের মতো নয়।’ শিব কুমার অবশ্য ঠিক কতগুলো বিমান ভারত হারিয়েছে তা জানাননি। বলেছেন, ‘যত বলা হচ্ছে, ততটা নয়।’ তিনি বলেন, ভারতের বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা টার্গেট না করার নির্দেশনা দিয়েছিল, যা পাকিস্তানের জন্য একটি ‘অপারেশনাল সুবিধা’ তৈরি করে।
পাকিস্তান এয়ারফোর্স যুদ্ধ চলাকালীনই জানায়, ৭ মে রাতে হওয়া সংঘর্ষে তারা ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ওই সংঘর্ষের আগে ভারত পাকিস্তানের শিয়ালকোট, ভাওয়ালপুর এবং আজাদ কাশ্মীরসহ ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিলো। যেসব বিমান ভূপাতিত হয়েছে, তার মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি তিনটি রাফায়েল জেটও ছিল, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার বড় সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হতো।
এর আগে সিঙ্গাপুরে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান বলেন, ‘কতগুলো বিমান হারিয়েছি সেটাই বড় বিষয় নয়, বরং কেন হারিয়েছি, সেটাই আসল বিষয়।’
এই সংঘাতের আগে ভারতীয় অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগামে এক হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ভারত এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে, যদিও পাকিস্তান তা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে।
অনিল চৌহানের পর শিব কুমারের সাম্প্রতিক এই স্বীকারোক্তি ভারতে রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি করেছে। বিরোধী দল কংগ্রেস মোদি সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, ‘অপারেশন সিদুঁর’ চলাকালে কত বিমান হারিয়েছে তা জনগণকে না জানিয়ে সরকার জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে।
