ঢাকাThursday , 22 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের চার পরিকল্পনা

Link Copied!

রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো, গণপরিবহণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরি।

Advertisement

সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব পরিকল্পনার তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহণের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, নির্ধারিত সময়সীমা, বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

Advertisement

সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে পদক্ষেপ নিলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন। পুরোনো বাস অপসারণ, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগগুলো সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে কার্যকর করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

রাজধানীর যানজটের প্রভাব শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মঘণ্টার অপচয়, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে কাটাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনশীলতা কমার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করে ঢাকার যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের সঠিক ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন গণপরিবহণের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠাও জরুরি।

পুরোনো বাস সরানোর পরিকল্পনা

রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনের কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গণপরিবহণের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে পুরোনো বাস অপসারণের পর পর্যাপ্ত বিকল্প যানবাহন না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে বাসের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই, বিকল্প বাসের ব্যবস্থা এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণেও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ

সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তঃজেলা বাসের প্রবেশ ও বের হওয়ার কারণে যান চলাচলে প্রভাব পড়ে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর কিংবা ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন করা গেলে কেন্দ্রীয় সড়কগুলোর ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে টার্মিনাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শুধু বাস রাখার জায়গা নির্ধারণ করলেই হবে না। নতুন স্থানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীদের যাতায়াতের সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গণপরিবহণের সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার পর সেখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত পরিবহণ না থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

আন্তঃজেলা বাসের যাত্রা শুরু ও শেষের স্থান এবং মহানগরীর অভ্যন্তরীণ পরিবহণের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি। টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, বাসের অপেক্ষমাণ জায়গা এবং পার্কিং পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা গেলে আশপাশের সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো সম্ভব।

সংস্কার হবে পুরোনো ৩১টি রুট

রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের পরিকল্পনাকে গণপরিবহণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কোন কোন রুট সংস্কারের আওতায় আসবে এবং কী ধরনের পরিবর্তন করা হবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

রুট সংস্কার বলতে শুধু সড়কের উপরিভাগ মেরামত বোঝায় না। বাস চলাচলের পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, স্টপেজের অবস্থান, সংযোগকারী সড়ক এবং যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাও এর আওতায় বিবেচনা করা দরকার।

ঢাকার বিভিন্ন সড়কে একই পথে একাধিক বাস কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তুলতে গিয়ে হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। আবার কিছু এলাকায় যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রুট সংস্কারের পরিকল্পনায় এসব সমস্যার সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

যাত্রী চলাচলের তথ্য, কর্মব্যস্ত সময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অবস্থান এবং মেট্রোরেলসহ অন্যান্য পরিবহণের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। পাশাপাশি বাসের সময়সূচি, যাত্রীদের অপেক্ষার সময় এবং রুটভিত্তিক পরিবহণ সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

রুট পরিবর্তনের কারণে কোনো এলাকার মানুষ যেন গণপরিবহণসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প রুট ও সংযোগকারী বাস চালু করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমতে পারে।

অটোরিকশা চলাচলে নীতিমালা

রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচল, যানজট এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় যানবাহনের নিবন্ধন ও পরিচিতি, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, চলাচলের অনুমোদিত এলাকা, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোন সড়কে কী ধরনের যান চলবে, তা সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবে কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা, নির্ধারিত স্ট্যান্ড এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা না থাকলে উদ্যোগের সুফল সীমিত হতে পারে। চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে নীতিমালা তৈরি করা হলে তা কার্যকর করা সহজ হবে।

সড়ক পরিবহণ ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহণের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

সংশ্লিষ্টদের মতে, চারটি উদ্যোগের সুফল পেতে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহণমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

কোন সংস্থা কী দায়িত্ব পালন করবে, কত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। পরিবহণ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বাসের ফিটনেস পরীক্ষা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজ কার্যকর করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগেও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।

পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। উদ্যোগগুলোর ফলাফল মূল্যায়নে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার, গণপরিবহণে যাত্রীর সংখ্যা এবং যানবাহনের নিয়মিত চলাচলের মতো সূচক ব্যবহার করা যেতে পারে।

রাজধানীর সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নীতিমালা ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রয়োজন ধারাবাহিক তদারকি, আইন প্রয়োগ, জনসম্পৃক্ততা এবং গণপরিবহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া। পুরোনো বাস সরানোর সঙ্গে বিকল্প পরিবহণ, টার্মিনাল স্থানান্তরের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ, রুট সংস্কারের সঙ্গে কার্যকর বাস পরিচালনা এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার যানজট কমানো ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
design and development by: Kishor Kumar