লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টে প্রকৃত তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত মেডিকেল সনদ বাতিল ও অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী নারী তানিজা বেগম ও এলাকাবাসী।
রোববার (১১ অক্টোবর) কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার কর্মসূচিতে ভুক্তভোগীর স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে তানিজা বেগমের স্বজনরা অভিযোগ করেন, গত ২০ জুলাই প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
তবে পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে ঘটনার প্রকৃত তথ্য গোপন করে বিষয়টিকে ‘নরমাল’ বা স্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। তাঁদের দাবি, এ ধরনের রিপোর্টের কারণে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বিতর্কিত মেডিকেল রিপোর্ট বাতিল করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নতুন মেডিকেল সনদ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে রিপোর্টে অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে এবং হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী তানিজা বেগম বলেন, “আমি আমার গর্ভের সন্তান হারানোর সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা টাকা বা প্রভাব খাটিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তন করেছে, তদন্ত করে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আলী রাজিব মোহাম্মদ নাসের বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
লালমনিরহাটের জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, ভুক্তভোগীর প্রাথমিক চিকিৎসার কাগজপত্রে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা থাকার প্রমাণ রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সঠিক মেডিকেল সনদ দেওয়ার দাবিতে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।


