সাভারে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেন হত্যা মামলায় মুন্সিগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ নিয়ে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মোট ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারদের অনেকেই কিশোরগ্যাং ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে কয়েকজন মারধর করছিলেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশের এসআই আলতাব হোসেন সেখানে এগিয়ে যান। নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি হামলার প্রতিবাদ করেন। কিন্তু এতে হামলাকারীরা থেমে না গিয়ে উল্টো তার ওপর চড়াও হয়।
প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল আলতাব হোসেনকে ঘিরে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি গ্যারেজের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। একপর্যায়ে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। র্যাব এ পর্যন্ত আটজনকে এবং পুলিশ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূলহোতা আপন, আলাউদ্দিন, জিহাদ ও ইমরানকে মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আলতাব হোসেনের ওপর হামলার সময় আপন এসএস পাইপ দিয়ে তাকে একের পর এক আঘাত করে। জিহাদ, ইমরানসহ অন্যরাও হামলায় অংশ নেয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাব আরও জানায়, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে কিশোরগ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।
এদিকে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
