ঢাকাSunday , 6 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৭ বছর ধরে বন্ধ শাহবাগ শিশুপার্ক, শৈশবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত নতুন প্রজন্ম

Link Copied!

এক বছরের মধ্যে সংস্কার শেষ করার কথা থাকলেও সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে রাজধানীর শাহবাগের শহীদ জিয়া শিশু পার্ক। দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোরদের পরিচিত এই বিনোদনকেন্দ্র এখন অনেকটাই বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেছে।

Advertisement

একসময় যেখানে শিশুদের কোলাহল আর বিভিন্ন রাইডে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য, বর্তমানে সেখানে নেই কোনো পুরোনো রাইড। পার্কটির আধুনিকায়ন কবে শেষ হবে এবং কবে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে—এ নিয়েও এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্র বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা, বিভিন্ন ধাপের অনুমোদন এবং অন্যান্য কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। বর্তমানে নতুন রাইড সংগ্রহ ও স্থাপনসহ বাকি কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

শিশুদের বিনোদন থেকে বঞ্চিত একটি প্রজন্ম

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিশু বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়ছে নগরের শিশু-কিশোরদের ওপর।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের নামে দীর্ঘ সময় পার্ক বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে গাফিলতিও এর জন্য দায়ী।

Advertisement

তিনি বলেন, একটি প্রজন্মের শিশুরা দীর্ঘদিন ধরে এই পার্কের স্বাভাবিক বিনোদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে পার্কটি চালু করার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একসময় ছিল শিশুদের প্রিয় ঠিকানা

শাহবাগের শিশুপার্ক একসময় রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থান থেকে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে এখানে আসতেন।

স্বল্প খরচে বিভিন্ন রাইডে চড়ার সুযোগ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছেও পার্কটি ছিল বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে শিশু-কিশোরদের ভিড়ে মুখর থাকত পুরো এলাকা।

কিন্তু পার্ক বন্ধ হওয়ার পর সেই দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে। গত সাত বছরে বেড়ে ওঠা অনেক শিশুই এই পার্কের রাইডে চড়ার সুযোগ পায়নি। রাজধানীতে খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রের সংকটের মধ্যে দীর্ঘ সময় পার্কটি বন্ধ থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক বিনোদনের সুযোগ আরও সীমিত হয়েছে।

বদলে গেছে পার্কের চিত্র

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো শিশুপার্কের বড় একটি অংশে এখন ভূগর্ভস্থ পার্কিং স্থাপনা তৈরি হয়েছে। পার্কিংয়ের ছাদ মাটি থেকে প্রায় চার ফুট ওপরে। আগের রাইডগুলোর কোনোটি এখন আর সেখানে নেই।

এ ছাড়া পার্কের সামনের অংশে বসানো হয়েছে কয়েকটি অস্থায়ী টং দোকান। ফলে আগের সেই পরিচিত শিশুপার্কের পরিবেশও অনেকটাই বদলে গেছে।

গত ২৯ আগস্ট স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে শাহবাগে আসা মুগদার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে খুব কম খরচে শিশুদের বিভিন্ন রাইডে চড়ানোর সুযোগ ছিল। ছুটির দিনে এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হতো। কিন্তু সংস্কারের নামে বছরের পর বছর পার্ক বন্ধ থাকায় শিশুদের সেই সুযোগ আর নেই।

পার্কের ফটকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চা-পান বিক্রি করা আতাউর জানান, ছুটির দিনগুলোতে এখনো অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে পার্কের সামনে আসেন। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ হয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়।

যেভাবে শুরু হয় আধুনিকায়ন

ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ‘স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ–তৃতীয় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় শাহবাগ শিশুপার্কের নিচে ভূগর্ভস্থ পার্কিং তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।

পার্কের পুরোনো রাইডগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় নতুন রাইড কেনা ও পার্ক আধুনিকায়নের জন্য ডিএসসিসিকে ৭৮ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে অর্থের পরিমাণ অপর্যাপ্ত মনে হওয়ায় তৎকালীন ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। পরে ডিএসসিসি নিজস্ব উদ্যোগে পার্কটি আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পার্কের সামনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভূগর্ভস্থ পার্কিং নির্মাণসহ উন্নয়নকাজ চলার সময় দুর্ঘটনা এড়াতেই পার্কটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

৬০৩ কোটি টাকার প্রকল্প

২০২০ সালের মে মাসে ডিএসসিসির মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ ফজলে নূর তাপসের সময়েও পার্ক আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য প্রায় ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়।

২০২৩ সালের আগস্টে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পে সরকারের অংশ ছিল ৪৮৩ কোটি টাকা—যার অর্ধেক অনুদান ও অর্ধেক ঋণ হিসেবে দেওয়ার কথা। পাশাপাশি ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৪৪১ কোটি টাকা, ১৫টি নতুন রাইড কেনা ও স্থাপনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। এসব রাইড ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আনার পরিকল্পনা ছিল।

তবে দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই রাইডগুলোর সম্ভাব্য দাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক পরিবর্তন ও প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের কারণে রাইড কেনার কার্যক্রমও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে।

২০২৭ সালের জুনে চালুর আশা

পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিএসসিসি পুরো প্রকল্পটি পুনরায় পর্যালোচনা করে। এতে পার্কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রাইড স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ভূগর্ভস্থ পার্কিং নির্মাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেওয়া প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। এরপর পার্কের জায়গা ডিএসসিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে নতুন রাইড স্থাপনসহ পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০২৭ সালের জুন নাগাদ শাহবাগ শিশুপার্ক আবারও শিশুদের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পার্কটির সংস্কারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।