নারায়ণগঞ্জের তারাবতে চীনা মালিকানাধীন ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
প্রতিষ্ঠানটির জব্দ করা বাণিজ্যিক নথিপত্র ও বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাত্র দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।
ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি তাদের বিক্রয় দেখিয়েছে ৩৩ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পরের অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালে বিক্রয়ের পরিমাণ আরও কমিয়ে ২২ কোটি ৬২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা দেখানো হয়। ফলে দুই অর্থবছরে সরকারি হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রদর্শিত মোট বিক্রয় দাঁড়ায় ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
তবে ভ্যাট গোয়েন্দাদের হাতে থাকা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক নথিপত্রে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। এসব নথি অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত ব্যাটারি বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। একইভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে ৬৮৫ কোটি ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকার।
অর্থাৎ দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রয়ের পরিমাণ ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার ৫৬১ টাকা বলে নথিপত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। বাণিজ্যিক দলিলাদিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ম্যানেজার এনামুল হকের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ আগস্ট জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, নথিপত্র এবং হিসাবসংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে জব্দ করা নথিপত্রের বিস্তারিত পর্যালোচনা ও হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়।
অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ব্যাটারি উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। সরকারি রাজস্ব এড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রকৃত বিক্রয় ও লেনদেনের তথ্য গোপন করে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে এনবিআর।
