ঢাকাSunday , 30 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. চাকরি
  10. ঢাকা বিভাগ
  11. ধর্ম
  12. প্রযুক্তি সময়
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বানিজ্য
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিজের গুমের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Link Copied!

২০১৫ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর ৬১ দিনের বন্দিদশা এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের মেঘালয়ে প্রায় নয় বছরের নির্বাসিত জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

Advertisement

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতের একটি মানসিক হাসপাতালে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে মানসিক রোগী হিসেবে মারা যেতে হবে এবং পরিবার হয়তো তার কবরও দেখতে পারবে না—এমন আশঙ্কা তাকে তাড়িয়ে বেড়াত।

Advertisement

৬১ দিনের বন্দিজীবন

২০১৫ সালে উত্তরার একটি বাসা থেকে অপহরণের পর তাকে একটি মাত্র ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের অন্ধকার ও সংকীর্ণ কক্ষে টানা ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কক্ষে একটি পানির কল এবং শৌচকাজের জন্য নর্দমার সঙ্গে যুক্ত একটি সরু ছিদ্র ছিল। সেখান থেকে সবসময় দুর্গন্ধ ছড়াত। মেঝেতে একটি কম্বল ও বালিশই ছিল তার শোবার ব্যবস্থা।

Advertisement

তীব্র গরমের মধ্যেও ঘরটিতে পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা ছিল না। দরজার ওপরের সামান্য ফাঁক দিয়ে যে বাতাস প্রবেশ করত, সেটিই ছিল তার স্বস্তির একমাত্র অবলম্বন। বাইরে একটি বৈদ্যুতিক পাখা চালু রাখা হতো।

হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও বন্দিদশায় কোনো চিকিৎসা পাননি বলেও জানান তিনি। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে চোখ বেঁধে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

চোখ বাঁধা অবস্থায় ভারতে

ভারতে নিয়ে যাওয়ার সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, চোখ বাঁধা অবস্থায় প্রথমে একটি মাইক্রোবাস এবং পরে গভীর রাতে একটি জিপে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

দীর্ঘ যাত্রার পর এক জায়গায় হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থাতেই তাকে চামচ দিয়ে নুডলস খেতে দেওয়া হয়। বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় সে সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবরও তার জানা ছিল না। বিষয়টি শুনে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাও বিস্মিত হন বলে জানান তিনি।

পরে ভোরের দিকে একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে মুখ ঢেকে অপহরণকারীরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।

বিলবোর্ড দেখে শিলং শনাক্ত

অপহরণকারীরা চলে যাওয়ার পর একটি বিলবোর্ড দেখে সালাহউদ্দিন আহমদ বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে রয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

প্রথমে তাকে একটি বেসামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মানসিক রোগীদের সঙ্গে তাকে রাখা এবং জোর করে মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগও করেন তিনি।

এ সময় তার চশমা কেড়ে নেওয়া হয় এবং দাড়ি-চুল কেটে দেওয়া হয়। এতে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় তিনি আরও ভেঙে পড়েছিলেন।

একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে তার স্ত্রীর ফোন আসে। ফোনে স্ত্রীর কান্নার আওয়াজ শুনে তিনি বুঝতে পারেন, পরিবার তার বেঁচে থাকার খবর পেয়েছে।

পরে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় সাংবাদিকদের টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর খালাস

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালত তাকে খালাস দেন।

ভারতে অবস্থানকালেই বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।

পরে ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ায় তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরতে পেরেছেন। এ জন্য জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

রাজনীতি ও গুমের ঘটনা

সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের সহকারী (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন।

২০০১ সালে কক্সবাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দলীয় আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে সে সময় বিএনপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।