রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তাঁর উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাঁকে ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল ও উলামা দলের নেতারাও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে উপাচার্যের কক্ষের তালা কেটে খুলে দেওয়া হয়। পরে কক্ষটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা সেখানে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।
তালা খোলার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, তাঁদের দায়িত্ব ছিল তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা উপাচার্যের বাসায় যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি এবং মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম।
শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী উপাচার্যকে তাঁর বাসা থেকে নিয়ে কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কী ঘটেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে
এর আগে মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে তাঁকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে ওই কাগজটি পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্বাক্ষর না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি তাতে সই করেন বলে জানান।
পরে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় তাঁর মুঠোফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরার সিপিইউ ও হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া এবং কয়েকটি কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
এ ঘটনায় রাজপাড়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন রাজশাহী নগরের বহরমপুর মোড় এলাকার আলী আকবর হোসাইন (৩০) ও দেলোয়ার হোসেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানান, ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদেরও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


