১৩ জুন ২০২৫, রবিবার রাতে বাংলাভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ‘মুহিবুল্লাহ মুহিব’ তার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট পোস্ট করেন, এ পোস্টে তিনি লেখেন –
মনে পড়ে অপারেশন ক্লিনহার্টের কথা?
২০০২ সালের অক্টোবর মাস। চারদলীয় জোট সরকারের এক বছর। তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি চলছিলো। আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া পুলিশ বাহিনী দিয়ে দেশ চালাতে হিমসিম খাচ্ছিলো বিএনপি। চার দিকে খুন, চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজিতে শুধু দেশের মানুষ নয়, অস্বস্তিতে ছিলো স্বয়ং তৎকালীন বেগম খালেদা জিয়া সরকার। ২০০২ সালের ১০ অক্টোবর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে সেই অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছিলো বেগম খালেদা জিয়ার চোখেমুখে। দায় স্বীকারের রাজনৈতিক কালচার বাংলাদেশে খুব একটা না থাকলেও বেগম খালেদা জিয়া এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি স্বীকার করলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি গত এক বছরে। সন্ত্রাস নির্মূলে তিনি আরো সময় চাইলেন দেশবাসীর কাছে। খালেদা জিয়ার স্থানে শেখ হাসিনা হলে হয়তো বক্তব্যটা ভিন্ন হতো। ক্ষমতার চেয়ারে বসে দায় স্বীকার করতে সাহস এবং সততা লাগে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্য রাতে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। যদিও সেই সময়ের সেনাবাহিনীর সাথে বর্তমান সেনাবাহিনীর বিস্তর ফারাক। মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে অন্য সব বাহিনীর (পুলিশ-বিডিআর-আনসার) চোখে ধুলি দিয়ে যে অভিযান শুরু হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে সন্ত্রাস নির্মূলে এই পদক্ষেপ ছিলো নজিরবিহীন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলতে ওই সময়ের সেনাবাহিনী-ই আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে।

শুনেছি, সেই অভিযানের কথা তৎকালীন অনেক সিনিয়র মন্ত্রীরাও জানতেন না। রাস্তায় আর্মির গাড়ি দেখে মানুষ বুঝতে পারে, দেশে কিছু একটা হচ্ছে। প্রথম দিনের অভিযানে যে পরিমান ধরপাকড় হয়েছে, তা বোধ হয় বেমালুম ভুলে গেছে এ জাতি। এক দিনেই আটক হয় প্রায় দেড় হাজার সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ। এদের মধ্যে ৯০ শতাংশ বিএনপি নেতাকর্মী। প্রথম দিনেই ঠান্ডা হয়ে যায় পুরো দেশ। বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী বিএনপির হাতে হাত রেখে চলতে পারে না৷ দলের যত গুরুত্বপূর্ণ নেতাই হন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে আপনার মূল্য খালেদা জিয়ার কাছে জিরো। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শিথিলতার সুযোগে যারা খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য করে বেড়াচ্ছেন, তারা খেসারত দিতে প্রস্তুত থাকুন। প্রত্যেকের তালিকা হচ্ছে। অকাম করে পার পাবেন, এমনটি ভেবে থাকলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন।
