সিরাজগঞ্জে ট্রাকসহ ২৯টি গরু ডাকাতির ঘটনার বাকি ১৩টি গরু উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীরা।
আজ বুধবার দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে গরু ব্যবসায়ীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. বুদ্দু শেখ।
তিনি বলেন, গত ৮ আগস্ট গরু ব্যবসায়ী আতোয়ার শেখ, জরিপ শেখ, ইয়াদ আলী ও সানোয়ার হোসেন পঞ্চগড়ের বসুনিয়া হাট থেকে ২৯টি গরু কেনেন। পরে তারা সিফা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ট্রাকে করে গরুগুলো নিয়ে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন।
পথিমধ্যে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার ভূয়াগাতি ওভারব্রিজের ওপর পৌঁছালে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ট্রাকটির গতি রোধ করে। পরে তারা দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ট্রাকসহ ২৯টি গরু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ডাকাত দলের সদস্যরা রংপুরের পীরগঞ্জে গিয়ে ট্রাকে এক গরু ব্যবসায়ীকে দেখতে পায়। এ সময় ডাকাতরা তাকে হত্যার হুমকি দিলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি পালিয়ে যান এবং মোবাইল ফোনে অন্য ব্যবসায়ীদের ঘটনার বিস্তারিত জানান।
তার দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে বাকি ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন, ডাকাতরা গরুগুলো গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ এলাকায় নিয়ে গেছে।
বিষয়টি সাদুল্লাপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ১৬টি গরু উদ্ধার করে এবং দুজনকে আটক করে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে বাকি ১৩টি গরু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ দুজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করলেও তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি আসামিরা বর্তমানে পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
তাই অবিলম্বে বাকি ১৩টি গরু উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীরা।


